দোতলা বাস আর লিচু
দোতলা_বাস_আর_লিচু
অমিতাভ_ব্যানার্জী
দোতলাবাস গুলো কলকাতার রাজপথ থেকে আজ বিলুপ্ত। ছোটবেলায় দেখেছি এই বাস গুলোকে রাস্তায় চলতে, চরেওছি। এই দোতলা বাস পশ্চিমবঙ্গের আরো দুই শহর দুর্গাপুর ও কোচবিহারেও চালু হয়েছিল।
ছোটবেলায় আমরা দুর্গাপুর থেকে কলকাতায় গেলে প্রায়ই এই বাসে চরতাম। তখনও দুর্গাপুরে তা চালু হয় নি। তাই যেহেতু আমাদের যাদবপুরের বাগাযতিন ও উল্টোডাঙ্গার লিলিবিস্কুট অঞ্চলে যেতে হত তাই No.5 আর No.9 বাস দুটোতে প্রায়ই উঠতে হত। আর দোতলার প্রথম সারির সিটের প্রতি একটা অদম্য আকর্ষণ ছিল।
তা একবার সন্ধ্যেবেলা এর কোনো একটিতে বাবা আর আমি উঠেছি। যথারীতি আমার ইচ্ছায় দোতলাতেই উঠেছি। ফাঁকা বাস। কিন্তু দুর্ভাগ্য একদম সামনের সিটে লোক রয়েছে। অবশ্য ২য় সারির সিট ফাঁকা ছিল তাই সেখানেই জানলার ধারে বসা হলো। তখন গ্রীষ্মকাল, হওয়া খেতে খেতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি, হঠাৎ বাবা ডেকে বললো সামনের সিট টায় যাবি? চোখ খুলে দেখি বাসটা প্রায় ফাঁকা। সামনের সিট পুরো খালি। লাফিয়ে উঠে গিয়ে সামনের প্রথম সারির সিটে গিয়ে বসলাম, বাবাও এলো।
বসেই কেমন যেন অসস্তি হতে লাগলো, সিটের ওপর যেন কিছু আছে যা বসতে অসুবিধে করছে! তখন আলো কম, চলন্ত বাসেই উঠে দাঁড়িয়ে ভালো করে দেখি, খান কয়েক পাকা লিচু সিটের খাঁজে আটকে আছে। হয়তো আগের যাত্রীর সাথে লিচুর গোছা ছিল যার থেকে কয়েকটা বেরিয়ে সিটের ফাঁকে আটকে গেছে। ব্যাস, আর কি বাবা ছেলে তে মনের আনন্দে দোতলা বাসের প্রথম সারির সিটে বসে হওয়া আর লিচু খেতে খেতে বেশ খানিকটা পথ যাওয়া গেল। এখনো মনে আছে, লিচু গুলো কিন্তু হেব্বি মিষ্টি ছিল।
(#অমিতাভ)
অমিতাভ_ব্যানার্জী
দোতলাবাস গুলো কলকাতার রাজপথ থেকে আজ বিলুপ্ত। ছোটবেলায় দেখেছি এই বাস গুলোকে রাস্তায় চলতে, চরেওছি। এই দোতলা বাস পশ্চিমবঙ্গের আরো দুই শহর দুর্গাপুর ও কোচবিহারেও চালু হয়েছিল।
ছোটবেলায় আমরা দুর্গাপুর থেকে কলকাতায় গেলে প্রায়ই এই বাসে চরতাম। তখনও দুর্গাপুরে তা চালু হয় নি। তাই যেহেতু আমাদের যাদবপুরের বাগাযতিন ও উল্টোডাঙ্গার লিলিবিস্কুট অঞ্চলে যেতে হত তাই No.5 আর No.9 বাস দুটোতে প্রায়ই উঠতে হত। আর দোতলার প্রথম সারির সিটের প্রতি একটা অদম্য আকর্ষণ ছিল।
তা একবার সন্ধ্যেবেলা এর কোনো একটিতে বাবা আর আমি উঠেছি। যথারীতি আমার ইচ্ছায় দোতলাতেই উঠেছি। ফাঁকা বাস। কিন্তু দুর্ভাগ্য একদম সামনের সিটে লোক রয়েছে। অবশ্য ২য় সারির সিট ফাঁকা ছিল তাই সেখানেই জানলার ধারে বসা হলো। তখন গ্রীষ্মকাল, হওয়া খেতে খেতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি, হঠাৎ বাবা ডেকে বললো সামনের সিট টায় যাবি? চোখ খুলে দেখি বাসটা প্রায় ফাঁকা। সামনের সিট পুরো খালি। লাফিয়ে উঠে গিয়ে সামনের প্রথম সারির সিটে গিয়ে বসলাম, বাবাও এলো।
বসেই কেমন যেন অসস্তি হতে লাগলো, সিটের ওপর যেন কিছু আছে যা বসতে অসুবিধে করছে! তখন আলো কম, চলন্ত বাসেই উঠে দাঁড়িয়ে ভালো করে দেখি, খান কয়েক পাকা লিচু সিটের খাঁজে আটকে আছে। হয়তো আগের যাত্রীর সাথে লিচুর গোছা ছিল যার থেকে কয়েকটা বেরিয়ে সিটের ফাঁকে আটকে গেছে। ব্যাস, আর কি বাবা ছেলে তে মনের আনন্দে দোতলা বাসের প্রথম সারির সিটে বসে হওয়া আর লিচু খেতে খেতে বেশ খানিকটা পথ যাওয়া গেল। এখনো মনে আছে, লিচু গুলো কিন্তু হেব্বি মিষ্টি ছিল।
(#অমিতাভ)
Comments
Post a Comment